পডোসাইট (Podocytes)

 

পডোসাইট (Podocytes) হলো মানবদেহের বৃক্কের (Kidney) ম্যালপিজিয়ান কর্পাসলের বোম্যান্স ক্যাপসুল (Bowman's capsule)-এর ভিসেরাল স্তরে অবস্থিত এক ধরণের বিশেষ রূপান্তরিত এপিথেলিয়াল বা আবরণী কোশ।


নাম ও নামকরণ 

গ্রিক শব্দ 'Podo' শব্দের অর্থ হলো পা (Foot) এবং 'Cyte' শব্দের অর্থ হলো কোশ (Cell)। এদের কোশদেহ থেকে অসংখ্য আঙুল বা পায়ের মতো প্রবর্ধক (Extensions) বের হয়, যা গ্লোমেরুলাসের রক্তজালিকা বা কৈশিকনালিগুলোকে জড়িয়ে রাখে। এই বিশেষ গঠনের জন্যই এদের নাম 'পডোসাইট'।


গঠনগত বৈশিষ্ট্য 

একটি পডোসাইট কোশ প্রধানত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত: 

  1. প্রধান কোশদেহ (Cell Body): এই অংশে কোশের নিউক্লিয়াস এবং অন্যান্য প্রধান অঙ্গাণু থাকে। এটি বোম্যান্স ক্যাপসুলের ভেতরের ফাঁকা জায়গার দিকে মুখ করে থাকে। 
  2. প্রাথমিক প্রবর্ধক (Primary Processes): কোশদেহ থেকে কিছু বড় বড় শাখার মতো প্রবর্ধক বের হয়।
  3.  পদতল বা পেডিসেল (Foot Processes বা Pedicels): প্রাথমিক প্রবর্ধকগুলো থেকে আরও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আঙুলের মতো অংশ বের হয়। দুটি পাশাপাশি পডোসাইট কোশের এই পেডিসেলগুলো একে অপরের সাথে ইন্টারলক বা চিরুনির দাঁতের মতো আটকে থাকে।


ছাঁকন প্রণালী (Filtration Slit) 

পাশাপাশি দুটি পেডিসেলের মধ্যবর্তী অতি ক্ষুদ্র ফাঁকা স্থানকে ফিল্ট্রেশন স্লিট (Filtration Slit) বা ছাঁকন ছিদ্র বলা হয়। এই ছিদ্রগুলির ব্যাস প্রায় 20-30 ন্যানোমিটার(nm)। এই ছিদ্রগুলো নেফ্রিন (Nephrin) এবং পডোসিন (Podocin) নামক বিশেষ প্রোটিন দ্বারা গঠিত একটি জালের মতো পর্দা বা ডায়াফ্রাম দিয়ে ঢাকা থাকে।


প্রধান কাজসমূহ

কিডনির রক্ত পরিশ্রুত বা ফিল্টার করার ক্ষেত্রে পডোসাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে: 

1. আল্ট্রাফিল্ট্রেশন বা অতিপরিষ্রাবণ: 

এরা গ্লোমেরুলাসের রক্তনালি থেকে জল, গ্লুকোজ, খনিজ লবণ এবং ইউরিয়ার মতো বর্জ্য পদার্থকে ছেঁকে বোম্যান্স ক্যাপসুলে প্রবেশ করতে দেয়।

2. প্রোটিন আটকে রাখা: 

 রক্তের প্রয়োজনীয় প্রোটিন (যেমন- অ্যালবুমিন) এবং লোহিত রক্তকণিকা যাতে ছাঁকনি গলে মূত্রের সাথে বেরিয়ে না যায়, পডোসাইট তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করে। 

3. রক্তনালির সুরক্ষা: 

 গ্লোমেরুলাসের রক্তনালির ভেতরের উচ্চ রক্তচাপের বিরুদ্ধে এরা বাইরে থেকে গাঠনিক সাপোর্ট দেয়, যাতে রক্তনালিগুলো ফেটে না যায়।


চিকিৎসাগত গুরুত্ব: 

পডোসাইট কোশগুলো একবার নষ্ট হয়ে গেলে সহজে আর নতুন করে তৈরি বা বিভাজিত হতে পারে না। কোনো কারণে (যেমন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা নেফ্রোটি সিন্ড্রোম) পডোসাইট ক্ষতিগ্রস্ত হলে ছাঁকনি আলগা হয়ে যায় এবং মূত্রের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় প্রোটিনুরিয়া (Proteinuria) বলা হয়।