বোম্যান্স ক্যাপসুল (Bowman's Capsule)


বোম্যান্স ক্যাপসুল (Bowman's Capsule) হলো বৃক্কের (Kidney) রেচন একক বা নেফ্রনের অগ্রভাগে অবস্থিত একটি পেয়ালার মতো বা কাপের আকৃতির দ্বি-স্তরী গঠন। বিজ্ঞানী স্যার উইলিয়াম বোম্যান 1842 সালে এটি আবিষ্কার করেন এবং তাঁর নামানুসারেই এর নামকরণ করা হয়েছে। গ্লোমেরুলাসকে চারদিক থেকে ঘিরে রাখে এবং গ্লোমেরুলাস থেকে পরিস্রুত তরল (glomerular filtrate) সংগ্রহ করে।


বোম্যান্স ক্যাপসুলের গঠন (Structure) 

 বোম্যান্স ক্যাপসুল মূলত দুটি স্তর নিয়ে গঠিত এবং এর মাঝখানে একটি ফাঁকা জায়গা থাকে।

1.  প্যারাইটাল স্তর (Parietal layer): এটি ক্যাপসুলের একদম বাইরের স্তর, যা সাধারণ আঁইশাকার উপকলা বা সরল স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াম (Simple squamous epithelium) কোশ দ্বারা গঠিত। এটি মূলত ক্যাপসুলের আকৃতি বজায় রাখে। 

2.  ভিসারাল স্তর (Visceral layer): এটি ভেতরের স্তর যা সরাসরি গ্লোমেরুলাসের রক্তনালিকা বা কৈশিক জালিকার সংস্পর্শে থাকে। এই স্তরে বিশেষ এক ধরণের কোশ থাকে যাদের পডোসাইট (Podocyte) বলা হয়। এই কোশগুলোর আঙ্গুলের মতো প্রবর্ধক (pedicels) থাকে, যা ছাঁকনি বা ফিল্টার তৈরিতে প্রধান ভূমিকা নেয়। Podocyte কোশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে Podocyte-এ Click করুন: Podocyte 

 3. বোম্যান্স স্পেস বা ক্যাপসুলার স্পেস (Capsular space): দুটি স্তরের মধ্যবর্তী খালি অংশকে বোম্যান্স স্পেস বা ক্যাপসুলার স্পেস বলে। গ্লোমেরুলাস থেকে রক্ত পরিশ্রুত হয়ে প্রথমে এই স্পেসেই এসে জমা হয়।


বোম্যান্স ক্যাপসুলের কাজ (Functions) 

  • পরিশ্রুত তরল সংগ্রহ: গ্লোমেরুলার হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপের কারণে রক্ত থেকে যে জল, গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড, ইউরিয়া এবং খনিজ লবণ ছেঁকে বের হয়, বোম্যান্স ক্যাপসুল সেই তরলকে (Glomerular filtrate) সংগ্রহ করে।
  •  ছাঁকন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা: পডোসাইট কোশগুলোর মাঝের সূক্ষ্ম ছিদ্র বা ফিল্ট্রেশন স্লিট  Filtration slits একটি নিখুঁত ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে, যা রক্তকণিকা (RBC, WBC) এবং বড় প্লাজমা প্রোটিনকে আটকে দিয়ে কেবল তরল অংশকে নিচে যেতে দেয়। 
  •  পরবর্তী অংশে প্রেরণ: সংগৃহীত পরিশ্রুত তরলকে এটি নেফ্রনের পরবর্তী অংশ অর্থাৎ নিকটবর্তী সংবর্ত নালিকা (Proximal Convoluted Tubule - PCT)-তে পাঠিয়ে দেয়, যেখানে প্রয়োজনীয় উপাদানের পুনঃশোষণ ঘটে।